• ...
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ০৭ মিনিট আগে
ই-পেপার

পুলিশে ১০ হাজার নিয়োগ

মাহমুদ কবীর
৩১ জানুয়ারি ২০১৫, শনিবার, ৯:৪৯
জননিরাপত্তা বিধান ও সেবার মহান ব্রত নিয়ে মানুষের কল্যাণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুলিশে 
কাজ করতে হয়। ফলে প্রার্থীদের যোগ্যতা আর সেবার মানসিকতা থাকা 
এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। লিখেছেন মাহমুদ কবীর
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোয়ার্টার্স থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ও পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদের বিপরীতে নিয়োগের লক্ষ্যে মোট পদের শতকরা ১৫ ভাগ, অর্থাৎ ১৫০০ নারী সদস্য এবং ৮৫০০ পুরুষ সদস্যসহ মোট ১০০০০ জন নিয়োগ করা হবে। ঢাকাসহ ৬৪ জেলায় ১৭ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাছাই প্রক্রিয়া চলবে।
আগ্রহী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষাসহ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে তাদের নিজ জেলার পুলিশ লাইনসে (যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে। 
প্রার্থীদের বয়সসীমা
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রার্থীদের বয়স সাধারণ/ অন্যান্য কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ০১/০২/২০১৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তানের ক্ষেত্রে ০১/০২/২০১৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ০১/০২/২০১৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হতে হবে। প্রার্থীদের এসএসসি/সমমানের সার্টিফিকেটে উল্লিখিত জন্মতারিখই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বয়স গণনার ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা 
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ কমপক্ষে জিপিএ ২.৫/সমমান পেতে হবে।
জাতীয়তা 
প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং যে জেলার বাসিন্দা সেই জেলাতেই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য উপস্থিত হতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত নহে)।
শারীরিক মাপ ও যোগ্যতা
সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা কমপক্ষে র্৫ ফুট র্৬র্  বা ১.৬৭৬৪ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৮৭৪ মিটার বা ৩র্১র্  এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৮০৮২ মিটার বা ৩র্৩র্  হতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে র্৫ ফুট র্৪র্  বা ১.৬২ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬২০ মিটার বা ৩র্০র্  এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৮১২৮ মিটার বা ৩র্১র্  হতে হবে। 
তবে মুক্তিযোদ্ধা/ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ও বুকের মাপের শর্ত প্রযোজ্য হবে।
অন্য দিকে উপজাতীয় কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা কমপক্ষে র্৫ ফুট র্৪র্  বা ১.৬২ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৮৭৪ মিটার বা ৩র্১র্  এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৮০৮২ মিটার বা ৩র্৩র্  হতে হবে। সকল কোটার নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে র্৫ ফুট র্২র্  বা ১.৫৮ মিটার হতে হবে। সব প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ও উচ্চতার সাথে ওজন অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে।
শারীরিক মাপ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে প্রার্থীদের যেসব কাগজ সাথে আনতে হবে 
প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক সরবরাহকৃত আবেদন ফরম পূরণ করে আবেদনপত্রের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূলকপি, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি, জেলার স্থায়ী বাসিন্দা/জাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি করর্পরেশন বা পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কমিশনার (যা প্রযোজ্য)-এর নিকট থেকে স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি, প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপি দাখিল করতে হবে। যদি প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি, সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি ছবি, পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকার ট্রেজারি চালান ১-২২১১-০০০০-২০৩১ নম্বরে জমা দিয়ে চালানের মূল কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে পিতা/মাতা/পিতামহ/মাতামহের নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্রের মূল কপি, যা যথাযথ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিস্বাক্ষরিত থাকতে হবে। পুলিশ পোষ্য কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পিতা/মাতার নাম, পদবি (বিপি নম্বরসহ) উল্লেখপূর্বক কর্মরত জেলা/ইউনিটের প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি, আনসার ও ভিডিপি কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪২ দিনমেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সনদপত্রের মূল কপি, এতিম কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি ও সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত এতিমখানার প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্রের মূল কপি; উপজাতীয় কোটার প্রার্থীদের আবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি এবং সরকারি ও আধাসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদের অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্রসহ পরীক্ষার নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি
প্রার্থীদের প্রথমে শারীরিক মাপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একই দিনে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়ের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং উক্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য প্রার্থীদের পুনরায় ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪৫% নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবেন। তবে জেলার নিয়োগযোগ্য প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে কোটাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে।
নির্বাচন পদ্ধতি
পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত হলে প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুনঃবাছাই কমিটি কর্তৃক শারীরিক যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্যাদি যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রশিক্ষণ
বাছাই কমিটি কর্তৃক পুনঃ বাছাইকালে যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রশিক্ষকেন্দ্রে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) হিসেবে ৬ মাসমেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণকালীন সুবিধা
ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে প্রার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক সামগ্রীসহ থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসাসুবিধা দেয়া হবে এবং প্রশিক্ষণকালীন প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে প্রশিক্ষণভাতা দেয়া হবে।
নিয়োগ ও চাকরির সুবিধা
সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর ২০০৯ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেড : ৪৫০০-৯০৯৫/- টাকা ও বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অন্যান্য বেতনভাতাসহ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে। কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ২ বছর মেয়াদি শিক্ষানবিসকাল সম্পন্নের পর ওই পদে স্থায়ীকরণ করা হবে। এ ছাড়া বিনামূল্যে পোশাক সামগ্রী, ঝুঁকিভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও নিজ ও পরিবারের নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যদের জন্য প্রাপ্যতা অনুযায়ী পারিবারিক রেশনসামগ্রী স্বল্পমূল্যে দেয়া হবে। অন্য দিকে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী উচ্চতর পদে পদোন্নতিসহ নিয়োগ প্রাপ্তদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কোটা পদ্ধতি
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন কোটা পদ্ধতি (সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধা, আনসার ও ভিডিপি, এতিম, পোষ্য ও উপজাতীয় কোটা) অনুসরণ করা হবে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

বিশেষ আয়োজন -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে