• ...
ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৪ মিনিট আগে
ই-পেপার

আজি এ বসন্তে

সাহিদা শিল্পী
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ৮:৫০
ষড়ঋতুর এ দেশে পালাবদল করে শীতের পরে আসে বসন্ত। ফাল্গুন ও চৈত্র নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের সময়কাল। এ সময় প্রকৃতি তার রূপের যৌবনে চার পাশ মাতিয়ে রাখে। শীতের রুক্ষতায় ঝরে পড়ে গাছের পাতা। শূন্য ডালগুলো কানায় কানায় পত্রপল্লব আর মুকুলে পূর্ণ হয়ে ওঠে ফাল্গুনের শুরুতে। ঋতুরাজ বসন্ত তার স্বকীয় চেহারায় শুরু করে রাজত্ব। লিখেছেন সাহিদা শিল্পী

‘বসন্ত বাতাসে গো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে।’
হঠাৎ ঠাণ্ডা উধাও। ঠাণ্ডা আর গরমের সংমিশ্রণে অদ্ভুত প্রকৃতি। ভোরে হালকা কুয়াশা আর মিষ্টি বাতাস গা ছুঁয়ে জানান দেয় ফাগুন এসেছে। এবার সাজবে প্রকৃতি। আগুনরাঙা রঙে।
গাইবে কোকিলÑ মুহু মুহু কুহু কুহু তানে। দখিনা বায়ে নাচবে মৌমাছি। প্রকৃতির পাগল করা সাজসজ্জা আর নাম না জানা কতশত ফুলের মোহনীয় সুবাসে মাতোয়ারা হবে সবাই।
এসেছে বসন্ত/বসন্ত বরণ
ষড়ঋতুর এ দেশে পালাবদল করে শীতের পরে আসে বসন্ত। ফাল্গুন ও চৈত্র নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের সময়কাল।
এ সময় প্রকৃতি তার রূপের যৌবনে চার পাশ মাতিয়ে রাখে। শীতের রুক্ষতায় ঝরে পড়ে গাছের পাতা। শূন্য ডালগুলো কানায় কানায় পত্র-পল্লব আর মুকুলে পূর্ণ হয়ে ওঠে ফাল্গুনের শুরুতে।
ঋতুরাজ বসন্ত তার স্বকীয় চেহারায় শুরু করে রাজত্ব। থোকায় থোকায় ফোটে কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, শিমুল, কাঞ্চন আর রাধাচূড়া। শাখে শাখে আমের মুকুল, কাঁঠালের মুচি আর মৌমাছির গুঞ্জন। জরাজীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নতুন কিছু করার প্রেরণা জোগায় বসন্তের ফাল্গুন। বসন্তকে বরণ করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকমের উৎসবের আয়োজন করা হয়।
১ ফাল্গুন বা ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় পালন করা হয় বসন্ত উৎসব। চারুকলা ভবন প্রাঙ্গণে দিনভর চলে এ উৎসব। রাস্তা কিংবা অফিসে সর্বত্রই বাসন্তি সাজে সজ্জিত ললনাদের দেখা মেলে।
কবিগুরু কিংবা নজরুলের গানের সাথে একাত্ম হয়ে যান অনেকে। ছেলেরাও পিছিয়ে থাকে না। বাসন্তি রঙের শাড়ির সাথে তাল মিলিয়ে তারাও হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে তোলে।
ঢাকার শাহবাগের মোড়ে দেখা যায় বাসন্তি রঙের মিছিল। ফুলের দোকানে ভিড় জমে যায়। বসন্তের মাতাল সমীরণ যেন বয়সের বাধা মানে না। দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্যের প্রতি আকণ্ঠ ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে ফাল্গুনের রঙে।
এ সময় শুরু হয় রাস মেলা, হলিখেলা। মনের কোথায় যেন নীরবে বাজতে থাকে গিটারের টুং টাংÑ ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে/বসন্তের এই মাতাল সমীরণে/কিংবা আহা আজি এ বসন্তে/কত ফুল ফোটে/কত বাঁশি বাজে/কত পাখি গায়...।
ফাগুন আর ফেব্রুয়ারির একাত্মতা
অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এ বাংলা। বসন্ত এলে তা আরো প্রস্ফুটিত হয়। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে ফাগুনের আগুন। লালে লাল হয়ে যায় কৃষ্ণচূড়া, পলাশ আর শিমুল। দখিনা বাতাসে ঝরে পড়ে পথের ধারে। সারি সারি পাপড়িগুলো
যেন লাল গালিচা। ঠিক যেন মনে করিয়ে দেয় সেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে বাংলার দামাল ছেলেদের বুকের তাজা রক্তে রাঙানো রাজপথ।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ফাগুনের আগুন ঝরা সেই দিনগুলোতে উত্তপ্ত ছিল ঢাকার রাজপথ। মায়ের ভাষাকে অুণœ রাখতে মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। বেপরোয়া পুলিশ গুলি ছোড়ে সে মিছিলে। রাজপথে লুটিয়ে পড়ে বাংলা মায়ের কিছু দামাল ছেলে। লাল হয় রাজপথ।
হয়তো পথের ধারের কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, শিমুল ঝেড়ে দিয়েছিল তাদের সব পাপড়ি, নয়তো রক্তাক্ত রাজপথ থেকে
লালের আভা মেখে আরো লাল হয়ে উঠেছিল তারা।

বসন্তের বাড়তি পাওয়া
একুশের বইমেলা আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সত্যিই বসন্তের বাড়তি পাওয়া। ফাল্গুনের হিমেল মিষ্টি হাওয়ায়
কোকিলের প্রাণকাড়া কুহু ডাকে মন যখন জুড়িয়ে যায়, তখন প্রকৃতির সাজকে নিজের মাঝে ধারণ করে বসন্ত সাজে
(ভালোবাসা আর ভালো লাগা)
সেজে ওঠে সবাই। প্রিয়জনকে মনের কথা জানাতে এবং প্রিয়জনের
সান্নিধ্যে থাকার ইচ্ছাকে সামনে রেখেই ফুল বা অন্য কিছু যাতে ভালোবাসা দিবসকে স্বাগত জানায় প্রেমিক হৃদয়।
বসন্তের আরেকটি পাওয়া একুশে ফেব্রুয়ারি। ফুলে, ফুলে ছেয়ে যায়
শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের
উদ্দেশ্যে উচ্চারিত হয় আমার
ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি...। ভাষার চেতনায় বাঙালি উদ্বুদ্ধ হন সেদিন। হয়তো প্রতিজ্ঞা করবেন অন্য ভাষার আগ্রাসন থেকে নিজের
মাতৃভাষাকে বাঁচানোর। নয়তো উপায় খুঁজবেন কিভাবে প্রাণের বাংলাভাষার আরো প্রাণসঞ্চার করা যায়।

শেষ কথা
ফাগুন যেমন মনের কোণে আগুন ধরায় প্রেম আর সৌন্দর্যের; ঠিক এর
বিপরীতটাও হতে পারে।
তাই উৎসব-আনন্দে উচ্ছৃঙ্খলতা পরিহার করে সালীনভাবে উৎযাপন
করাই সবার কাম্য। পরিবার পরিজন
নিয়েই আমাদের সমাজ এবং আমরা। রোগব্যাধি থেকে রেহাই পেতে যেমন প্রতিষেধক দরকার, তেমনি
অনাকাক্সিত পরিস্থিতি প্রতিহতের লক্ষ্যে বিবেক জাগ্রত করতে হবে। তবেই না
হবে বসন্তবরণ। া
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে