• ...
ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৫৭ মিনিট আগে
ই-পেপার
রঙের ঝলক

বসন্ত উৎসবে

ফাহমিদা জাবীন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার, ৮:৩৮
সারা বছরে ছয়টি ঋতুর আসা-যাওয়া হলেও আমরা বসন্তকে দেখি আলাদা চোখে। শীতের জীর্ণতা শেষে প্রকৃতিকে সবুজে সবুজে শোভিত করে তোলার কৃতিত্ব কিন্তু বসন্তেরই। গাছে গাছে নতুন ফুলের সৌরভ, নতুন কুঁড়ি, আমের মুকুলের ঘ্রাণ আর কোকিলের কুহুতান আমাদের জানিয়ে দেয়Ñ বসন্ত আসছে। এখন সবাই বসন্তকে স্বাগত জানায় উৎসবের মধ্য দিয়ে। পয়লা ফাল্গুন বাঙালি মেতে ওঠে বসন্তবরণ উৎসবে। তরুণ-তরুণীরা সাজে বাসন্তী রঙের পোশাকে। পোশাকের সাথে মিলিয়ে থাকে গাঁদা ও পলাশ ফুলের সাজ।
বসন্তের প্রধান উৎসব হয় বকুলতলায়। এখান থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে রমনা, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায়। বিভিন্ন জায়গায় বসন্তকে সবাই বরণ করে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বসন্তবরণ উৎসবের প্রসঙ্গ উঠতেই আনন্দে উচ্ছল হয়ে উঠলেন জেরিন। আনন্দভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, বসন্ত উৎসব এখন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বসন্তবরণ উপলক্ষে আমি ফ্যাশন হাউজ থেকে বাসন্তী রঙের শাড়ি কিনব। সাথে ম্যাচিং করে ফুলের গয়না, চুড়ি, টিপ তো থাকবেই। আমরা ক’জন বন্ধুবান্ধব মিলে সকালে চারুকলার বকুলতলায় বসন্তবরণ উৎসবে যোগ দেবো। বিকেলে বইমেলায় যাবো।
সদ্য মাস্টার্স পাস করা ফাহিমা বললেন, বাঙালি একটা জায়গায় গিয়ে নিজের শেকড় খোঁজে। আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য এসব উৎসবের খুব প্রয়োজন। পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন এসব উৎসবই তো বাঙালি সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য। খুব ভালো লাগে এই দিনে ঘুরে বেড়াতে। চার দিকে একটা উৎসবের মেলা বসে যেন। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বইমেলা, বসন্তমেলা প্রভৃতিতে অংশ নিই। পয়লা ফাল্গুনের এই উৎসবে বাঙালির জীবনে যেন নতুন করে প্রাণের ছোঁয়া লাগে। তাই সবাই মেতে উঠে বসন্তের উৎসবে।

উৎসবের দিনে
পয়লা ফাল্গুন উৎসব কিভাবে উদযাপন করবেন তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
ষ কী খাবেন, কোথায় যাবেন, কী করবেন সেই বিষয়গুলো আগেই ঠিক করে নিন।
ষ উৎসবে কী ড্রেস পরবেন সেটাও ঠিক করে নিন। আগের দিনই জামাকাপড় গুছিয়ে রাখুন। ড্রেসের সাথে মানানসই গয়না, প্রসাধনী, টিপ, চুড়ি ইত্যাদিও ঠিক করে রাখুন। প্রসাধনীর আগে ত্বকে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেবেন। এতে ত্বক রোদে পোড়ার ভয় থাকবে না।
ষ যে ফুল ব্যবহার করবেন সেগুলো আগের দিন কিনে প্লাস্টিকে বা কাপড়ে মুড়ে ফ্রিজে রেখে দিন। ফুল তাজা থাকবে।
ষ টিস্যু সাথে রাখুন।
ষ সারা দিন বাইরে থাকতে চাইলে মাঝে দু-একবার মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে আবার প্রসাধন করে নিতে পারেন।
ষ বাইরের খোলা খাবার ও পানি না খাওয়াই ভালো। তার বদলে সাথে ঘরে তৈরী খাবার রাখতে পারেন।

বাইরে থেকে ফিরে
যারা সারাদিন বাইরে থাকবেন তাদের ঘরে ফিরে কিছু যতœ নেয়া প্রয়োজন। একটু সচেতনতা আমাদের সুস্থ ও সজীব রাখতে পারে। সারা দিন বাইরে ঘোরাঘুরি করে কান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেই শুয়ে পড়বেন না।
ষ বাইরে থেকে এসে পোশাক পাল্টে প্রথমেই মুখের মেকআপ তুলে নিন। সে ক্ষেত্রে তুলা বা টিস্যু দিয়ে মেকআপ মুছে নিন। তারপর সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
ষ পরিধেয় কাপড়গুলো ছড়িয়ে রাখবেন। নয়তো ঘামের দাগ বসে যাবে।
ষ ভালো করে মুখ-হাত ধুয়ে নিন কিংবা আর একবার গোসল করে নিন।
ষ চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার করে ভালো করে আঁচড়ে নিন।
ষ শিশুদের ক্ষেত্রে পাতলা কাপড় ভিজিয়ে শরীরটা মুছে দিন। আরাম পাবে।
ষ হাত-মুখ ধোয়ার পর কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন।
ষ সারা দিন পর বাসায় ফিরে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করবেন না।
ষ শরবত বা ফলের রস বেশি করে খাবেন। কান্তি দূর হবে।
ষ যাদের চা, কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা চা খেতে পারেন।
ষ কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ আরাম লাগবে ও কান্তি দূর হবে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে