• ...
ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৫৩ মিনিট আগে
ই-পেপার
চ ল তি থে রা পি

সেইসব ভালোবাসাবহুল ঘটনা

শাহাদাত ফাহিম
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বুধবার, ৯:৫২
সারমিনা ইতোমধ্যে ডাবল পরিষ্কার ভাষায় রনিকে হুমকি দিয়ে রেখেছে এই বলে যেÑ আমাকে যেহেতু পেয়েছ; এখন থেকে কিন্তু কোনো দিন তোমার মরণ চলবে না। চললে প্রহসনের মামলা দায়ের করা হবে চান্দু!
 
ভালোবাসা দিবসের লেখাটি শুরু হয়ে যাক ভালোবাসার ঘটনা দিয়েই। দীর্ঘ দিন প্রেম করার পর সোহাগের সাথে সুরমার ঠুস করে বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই আচমকা সুরমার ডিমান্ড বাড়তে থাকে হু হু করে। আর ভালোবাসা কমতে থাকে ধু-ধু করে। বিয়ের আগে যতই বলেছে সে গাছতলায় থাকতে রাজি, এখন সে সাইটওয়াল টিনশেডেও থাকতে রাজি নয়। সোহাগ গাধাখাটনি খেটে বাইরে থেকে রাত করে বাসায় ফেরে। দেখে সুরমা মোবাইলে কারো সাথে হাসতে হাসতে সবে পাকঘরে ঢুকছে। ক্ষুধার্ত সোহাগ ডাইনিং টেবিলে থাপ্পড় মেরে দুঃখ প্রকাশ করে এভাবেÑ শালার যার জন্য দৈনিক জীবন কোরবান করছি, সে কিছুই করছে না। আসলে ভালোবাসা কারে কয়। অমনি খুন্তি হাতে তেড়ে এসে সুরমা বলেÑ ভালোবাসা কারে কয় সেটি দিয়ে তুমি কী করবা। তুমি কতটা ক্ষেত হলে একটা ভালো বাসায় না রেখে আমাকে টিনশেডে রাখতে পারছো। ছি:, তোমাকে ছি:।
অনেকের ভালোবাসা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না। আবার অনেকে নিজেরাই গড়াতে দেয় না। এ যে নাজিমের ব্যাপারটাই ধরা যাক। সুরাইয়ার সাথে সে গাছতলায় বসে কত টন বাদাম আর কত মণ বিটলবণ খেয়েছে, সেটি হিসাব করতে গেলে মাথা চক্কর দিয়ে উঠবে নিশ্চিতভাবে। অথচ এক আহাদি মুহূর্তে নাজিমকে জড়িয়ে ধরে সুরাইয়া যখন জানতে চেয়েছেÑ তুমি যে এখন আমাকে এভাবে দিল দিয়ে ভালোবাস, বিয়ের পর এর ধারাবাহিকতা টিকে থাকবে তো? উত্তরে নাজিম বলেছেÑ থাকবে মানে, অবশ্যই থাকবে। তবে তখন তোমার স্বামী যদি কিছু মনে না করে আর কি! 
চুরি করা অবৈধ। যে কারণে কেউ প্রকাশ্যে চুরি করে না। কিন্তু প্রেম যদি বৈধ হয়ে থাকে তাহলে এটি প্রকাশ্যে করতে এত ভয় কেন। এর উত্তরের দিকে না গিয়ে সারন ও মেরির দিকে যাওয়া যাক। এ দু’জন গোপনে প্রেম করছিল তুমুলভাবে। একদিন প্রেমের হালকা উপসর্গ ধরা পড়ে প্রেমের আরেক ভিখারি আবুল বাশারের কাছে। সে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে ঘামাতে মেরির সামনে গিয়ে উষ্ঠা খেয়ে প্রেমের স্বীকারোক্তি চায়। মেরি সাফ জানায়Ñ সারনের সাথে আমার একটুও সম্পর্ক নেই। আর এই বাক্যটিই বাশারের মুখ হয়ে পৌঁছে সারনের কানে। সারন ত্বরিত তেলাপোকার ওষুধ নিয়ে মেরিকে বলেÑ আমার সাথে যেহেতু তোমার একটুও সম্পর্ক নেই, তাই এ জীবন রাখব না। মেরি মুচকি হেসে বলেÑ আরে বোকা, সম্পর্ক নেই তাতে কী। ভালোবাসা তো আছে বস্তা ভরা! 
ভ্যালেন্টাইনে প্রেমিকারা উপহার হিসেবে রুজি-রোজগার ভালোই করে থাকে। মাঝে মধ্যে টুকটাক রুজি প্রেমিকদেরও হয়ে থাকে। যেমনÑ শরিফ মাহমুদ প্রতি ভ্যালেন্টাইনে বিভিন্ন আইটেমের সওদা পাতি উপহার দেয় বীথিকে। গত ভ্যালেন্টাইনে আচমকা বীথিও বলে বসলÑ এবার আমিও তোমাকে উপহার দেবো। বলো, কী চাও তুমি? বাগবাগ হয়ে যাওয়া শরিফ বললÑ আর কিছু নয়, তোমার হাসিটিই চাই সারা জীবন। ব্যস, এবারের ভ্যালেন্টাইনে অগ্রিমভাবে শরিফ উপহার দিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটাল। বিপরীতে শরিফকে দিলো বীথি নিজের বিয়ের কার্ড! এতে শরিফের মাথায় আসমানের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার আগ মুহূর্তে তাকে প্রত্যাখ্যান করে অন্যকে বিয়ে করার কারণ জানতে চায় সে। উত্তরে বীথি জানায়Ñ তোমাকে বিয়ে করলে অভাবে-দুঃখে আমার মুখে হাসি ফুটত না একটুও। তাই পয়সাওয়ালাকে বিয়ে করছি হাসিখুশি থাকতে পারব বলে। তুমি না গত ভ্যালেন্টাইনে বলেছিলে সারা জীবন আমার হাসি চাও! 
নড়বড়ে ভালোবাসার চেয়ে বেকার থাকাই ভালো। ভালোবাসলে অমন কারেই বাসতে হবে যেন কথার আগে-পরে মুখ দিয়ে বের হয়Ñ তোমাকে না পেলে আমি বাঁচব না। এটি শুধু রনির ডায়ালগই নয়; বিশ্বাসও নাকি। আর এ কারণেই সারমিনাকে সে ঘুমের ঘোরেও বলেছেÑ তোমাকে না পেলে আমি বাঁচব না। গুড নিউজ হলো, সারমিনাকে সে পেয়েছেও। কিন্তু দুশ্চিন্তা বেড়েছে আগের চেয়ে কোটি গুণ বেশি। কারণ সারমিনা ইতোমধ্যে ডাবল পরিষ্কার ভাষায় রনিকে হুমকি দিয়ে রেখেছে এই বলে যেÑ আমাকে যেহেতু পেয়েছ; এখন থেকে কিন্তু কোনো দিন তোমার মরণ চলবে না। চললে প্রহসনের মামলা দায়ের করা হবে চান্দু!
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে