• ...
ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৫৯ মিনিট আগে
ই-পেপার
থে রা ঠ ক

তবে কেন লোক হাসালি!


১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বুধবার, ৯:৫২
নাসিমা আক্তার। আমার প্রতিবেশী একটা মেয়ে। বয়সে আমার দুই বছরের জুনিয়র। তার স্বভাব চরিত্র ও আচার আচরণ যদি এক কথায় প্রকাশ করতে হয়, তাহলে বলতে হবে আস্ত একটা মালেকা হামিরা। সে এমন বজ্জাতের হাড্ডি, আলিফ লায়লার মালেকা হামিরাও তার কাছে ফেল। একদম উড়নচণ্ডী স্বভাবের একটা মেয়ে। নিজেকে বিশ্বসুন্দরী ভাবে। আশপাশের কাউকে পাত্তা দেয় না। সব সময় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। আমাদের বাড়িতে তিনটা ঘর আছে। একটা আমাদের। একটা নাসিমাদের। আরেকটা লিটনদের। কারো সাথে কারো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। লিটন একটি বড় রাজনৈতিক দলের ক্যাডার। লাইলি-মজনুর মতো নাসিমা-লিটনের মাঝেও একটা ব্যাপার-স্যাপার আছে। এটিই নাসিমার আসল শক্তি। তাই নিজেকে মনে মনে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী ভাবতে তার খুব ভালো লাগে। তার জ্বালায় বাড়ির সবাই ত্যক্ত-বিরক্ত।
বাড়ির সামনে একটা জায়গা আছে। জায়গাটা লিটনদের। লিটনের দাদা এটি বাড়ির সবার জন্য উন্মুক্ত করে সেখানে একটা ছোটখাটো পার্ক বানিয়ে দিয়েছেন। পার্কে সুন্দর একটা দোলনাও আছে। নাসিমা এক নম্বর দোলনাপাগল। বাড়ির সবাই সেখানে যেত। সময় কাটাত। কিন্তু লিটনের সাথে সম্পর্ক হওয়ার পর পার্কটা নাসিমার একার দখলে চলে যায়। আর কারো জন্য পার্কে প্রবেশ করার অনুমতি নেই। সে একা দোলনায় দোলবে। আর কেউ দোলতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি কয়েকবার তার সাথে সংলাপে বসতে চেয়েছি। সে পাত্তা দিলো না। আর চুপ থাকতে পারলাম না। বাড়ির অন্যদেরকে নিয়ে অবরোধ ডেকে বসলাম। দোলনার রশি কেটে দিয়ে পার্কের গেটে চাইনিজ তালা লাগিয়ে দিলাম। তা দেখে নাসিমা আমাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে আরেকটা ঘটনা ঘটে যায়। নাসিমার ক্রেজি স্বভাব লিটনও অপছন্দ করা শুরু করে। কারণও আছে। পাশের বাড়িতে থাকা আমার সুন্দরী চাচাতো বোন মলির দিকে লিটনের চোখ পড়েছে। কয়েক দিনে তাদের মন দেয়া-নেয়াও হয়ে যায়। মালি লিটনের ক্ষমতায় আরোহণ করায় পার্কের বিষয়টা সম্পূর্ণরূপে আমাদের দিকে হেলে যায়। নাসিমার দিন শেষ। তার হম্বিতম্বিও শেষ। ঘটনার ভয়াবহতা আন্দাজ করতে পেরে নাসিমা আমার কাছে সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে আসে। কারণ নাসিমা কয়েক বেলা ভাত না খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু দোলনাতে দোল না খেয়ে থাকতে পারে না। লিটন তাকে ছেড়ে দিলেও তার সমস্যা নেই। কারণ লিটনের মতো কয়েক ডজন ছেলে তার পেছনে ঘুরঘুর করে। একটা প্রেমিক খুঁজে নেয়া তার জন্য ওয়ান-টুর ব্যাপার। কিন্তু নতুন একটা পার্ক বানানোর ক্ষমতা নাসিমার বাপদাদার চৌদ্দগোষ্ঠীরও নেই। সে দেখল, তার পার্কে ঘোরা  আর দোলনাতে দোলা সবই আমার মর্জির ওপর নির্ভর করছে। তাই নাসিমা একদিন আমার কাছে এসে গালে সাড়ে চার ইঞ্চি চওড়া একটা হাসি দিয়ে বলল, আপা! অনেক দিন আপনার সাথে কথা বলি না; তাই একটু কথা বলতে এলাম। তার এই পরাজিত হাসি দেখে আমি মনে মনে বললাম, আহা রে চান্দু! সেই তো মল খসালিÑ তবে কেন লোক হাসালি! 
আমাতুল্লøাহ তামান্না
নোয়াখালী সরকারি কলেজ
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে