• ...
ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৫৭ মিনিট আগে
ই-পেপার
যন্ত্রপাতিসহ সুসজ্জিত রয়েছে অস্ত্রোপচার ক

অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে চট্টগ্রামে ১১ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতিসেবা বন্ধ

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ৯:২৯
বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ধোরলা গ্রামের লাকী আক্তার গত বছরের এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেন। প্রসব ব্যথা উঠলে বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন; কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রসব সময় দেরি আছে বলে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেয়ার কয়েক মিনিট পরে তিনি সন্তান প্রসব করেন। কেবল লাকী আকতার নন, আরো অনেককেই চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতিসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ না থাকায় রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার আগেই প্রসূতি কিংবা শিশু মারা যাচ্ছে। অথচ এগুলোতে যন্ত্রপাতিসহ সুসজ্জিত অস্ত্রোপচার ক রয়েছে।
জানা গেছে, সার্বণিক বিদ্যুৎ ও রক্তদানের ব্যবস্থা না থাকা, এক্সরে যন্ত্র নষ্ট থাকা, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অ্যানেসথেসিওলোজিস্ট বা অবেদনবিদের অভাবে ১১টি উপজেলার জরুরি প্রসূতি সেবা না পেয়ে মায়েদের ঝুঁকি নিয়ে শহরে আসতে হয়। অনেক েেত্র তাদের দীর্ঘ দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে কখনো প্রসূতি ও শিশু দুজনের জীবনই সঙ্কটের মধ্যে পড়ে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৫৭০ জন প্রসূতি ভর্তি হন। এর মধ্যে সিজারিয়ানের অভাবে জরুরি প্রসূতিসেবা না মেলায় ৮৬০ জন মৃত শিশু প্রসব করেছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলার প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে প্রসূতি ও অবেদনবিদ পরামর্শকের পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সন্দ্বীপ, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’টি পদই শূন্য। শুধু ফটিকছড়ি, পটিয়া, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে অবেদনবিদ ও প্রসূতি পরামর্শক দুইজনই আছেন। আনোয়ারা ও চন্দনাইশসহ ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য ঝকঝকে অস্ত্রোপচার কে শয্যা, বাতি, যন্ত্রপাতি সবই রয়েছে; কিন্তু অবেদনবিদ না থাকায় সে যন্ত্রগুলো কাজে লাগছে না। এ দিকে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি বা অবেদনবিদ পরামর্শকের দু’টি পদই শূন্য রয়েছে। এ দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবেদনবিদ ও প্রসূতি কনসালট্যান্টের পদ শূন্য থাকলেও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে প্রেষণে আসা কনসালট্যান্টের সংখ্যা ১৭ জন। একই সাথে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে প্রেষণে থাকা অ্যানেসথেসিওলোজিস্ট বা অবেদনবিদের সংখ্যা ১৩ জন।
চট্টামের সিভিল সার্জন ডা: সরফরাজ খান নয়া দিগন্তকে জানান, জরুরি প্রসূতিসেবার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচেনায় রাখলেও গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়ার জুনিয়র কনসালট্যান্টের অভাবে ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।

পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে