• ...
ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৫৬ মিনিট আগে
ই-পেপার

ইসলামে বিনোদন

এহসান বিন মুজাহির
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শুক্রবার, ৮:৪০
ইসলামের দৃষ্টিতে গানবাজনা হারাম। কেননা গানবাদ্য মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে এবং পাপাচারের কাজে প্রেরণা জোগায়। মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং তাকে (কুরআন) নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রƒপ করে, তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সূরা-লুকমান : ০৬)। ওই আয়াতে অবান্তর কথা দ্বারা এমন কাজ বোঝানো হয়েছে যা মানুষকে আল্লাহর জিকির থেকে বিরত রাখে। বেশির ভাগ ওলামায়ে কেরামের মতানুযায়ী, এ কথার দ্বারা বিশেষভাবে ‘গান’ বোঝানো হয়েছে।
হজরত ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবু শায়বা এবং বিশিষ্ট তাবিঈ আবু সাহবাও উপরিউক্ত মত পোষণ করেছেন। আবু সাহবা বলেন, আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা:-কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘এর দ্বারা গানই বোঝানো হয়েছে।’ অন্যান্য তাফসির বিশারদগণও অবান্তর কথার ব্যাখ্যা গানই বুঝিয়েছেন। (তাফসিরে রুহল মাআনি ৭/৬৭, তাফসিরে কুরতুবি-১৪/৫১)।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক (গানবাজনা) করছ’, সূরা নাজম ৬১ : আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের আক্রমণ কর, তাদের অর্থসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরিক হয়ে যা এবং প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না’ (সূরা বনি ইসরাঈল : ৬৪)।
উপরিউক্ত আয়াতের ‘ছাওত’ শব্দের অর্থ আওয়াজ। শয়তানের আওয়াজ কী এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা: বলেন, গানবাদ্য, যন্ত্র, রঙ তামাশার আওয়াজই শয়তানের আওয়াজ। এর মাধ্যমে সে মানুষকে সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। (তাফসিরে কুরতুবি ১০/২৯০ ও মাআরিফুল কুরআন, ৭৮৩)।
হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘গানবাদ্য শ্রবণ করা কবিরা গুনাহ এবং গানের অনুষ্ঠানে বসা ফাসিকি আর এর দ্বারা আনন্দ অনুভব করা কুফরি।’ (আবু দাউদ, ৬৭৪; শামি ৬/৩৬৯)। ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সা: বলেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।’ (বুখারি, দ্বিতীয় খণ্ড, ৮৩৭)।
হজরত নাফে রা: বলেন, আমি একদা ইবনে ওমর রা: সাথে পথ চলছিলাম। তখন তিনি বাঁশির শব্দ শুনে তাঁর আঙুলদ্বয় কর্ণদ্বয়ে স্থাপন করলেন এবং রাস্তা ত্যাগ করে অন্য রাস্তায় অগ্রসর হলেন।
কিছু দূরে গিয়ে বলেন, ‘হে নাফে, তুমি কিছু শুনতে পাচ্ছ কি?’
আমি বললাম, জ্বি না। তখন তিনি আঙুলদ্বয় কান থেকে সরালেন। অতঃপর বলেন, ‘আমি একদা নবী করিম সা:-এর সাথে ছিলাম। তখন বাঁশির শব্দ শুনতে পেয়ে আমি যেমন করলাম তিনিও ঠিক তদ্রƒপ করেন।’ (আবু দাউদ, ৬৭৪)। রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘গায়ক ও গান শ্রবণকারীর ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (তিরমিজি শরিফ)। রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘গান মানব অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে; যেমন পানি রবিশস্য উৎপাদন করে।’ (রুহুল মাআনি, সপ্তম খণ্ড, ৬৮)।
হজরত আলী রা: থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।’ (আবু দাউদ শরিফ-৬৭৪)। ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত যে, নবী করিম সা: বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই উম্মত ভূমিধস, উৎপেণ ও বিকৃতি সাধন হবে, যখন তারা মদ পান করবে, গায়িকা দ্বারা গানের আয়োজন করবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, রুহল মাআনি, সপ্তম খণ্ড, ৭৬)।
লেখক : প্রবন্ধকার, তরুণ আলেম
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে