• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৭ মিনিট আগে
ই-পেপার

বই ই-বই ও বইমেলা

আফতাব চৌধুরী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শুক্রবার, ৮:৪২
সময়ের গতিতে সবই বদলে যাচ্ছে, আজ যে নতুন, কালের গতিতে একটা সময় আসবে তা পুরনো হয়ে যাবে। একসময় লেটার প্রেসে কাঠের ব্লকে বই ছাপা হতো। পরবর্তী সময়ে তাই বিবর্তনের ধারায় লেটার প্রেস থেকে ডিটিপি অফসেটে বই ছাপা হয়। অর্থাৎ কি না পরিবর্তিত এই বির্বতনের ধারাকে ইচ্ছা আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে। তবুও অবশ্যই বলতে হয় পুরনো ঐতিহ্যের হাত ধরে নতুনের আত্মপ্রকাশ, পরম্পরা আর শাশ্বত ধারাকে কেউ কোনো দিন অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু ছাপা বই পড়ার অভ্যাস আর সুযোগ সব সময় থেকে গেছে। এই ছাপা বইয়ের দুই মলাটের ভেতর কত জ্ঞানী-গুণী আর জ্ঞানতাপসের সাধনা বন্দী আছে তা থেকেই এগিয়ে গেছে সভ্যতা। আজো ই-বই আর ইন্টারনেটের যুগে ছাপা বইয়ের কদর বা তার গুরুত্ব কোনো অংশে কমেনি। তবে ইন্টারনেট সংযোগ হওয়ায় অনেকটা সহজলভ্য হয়ে গেছে প্রাসঙ্গিক তথ্য লেখক ও গবেষকদের বের করতে। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতা এখনো ছাপা বই বা প্রিন্টিং বইয়ের বেশি, তুলনামূলক আলোচনায় ছাপা বইয়ের ব্যবহার হতে বেশি দেখা যায়। বিশ্বায়ন যতই দূরকে কাছে নিয়ে আসুক কিংবা নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কারের ফলে মানুষ যতই বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত হোক না কেন, তত বেশি বইয়ের প্রয়োজন তার রয়েছে। কারণ অগ্রজরা যে অভিজ্ঞতার জীবন সঞ্চয় করে গেছেন তাই তাদের লেখা বইতে বিধৃত বা লিপিবদ্ধ করেছেন। তাই পড়ে অনুজরা সেই অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই আরো দূর এগিয়েছে। এইভাবে সমাজ বিজ্ঞানীদের হাত ধরে সমাজটা এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি, সাহিত্যের ভাবনা, শিল্পীর প্রকৌশল, চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি, প্রযুক্তির নব নব আবিষ্কার এসব বই পড়তে পড়তে পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতার আলোক থেকে সমানে কুড়িয়ে নিচ্ছে। ইলেকট্রনিক মাধ্যমের যতই দাপট আসুক না কেন, কোনো েেত্রই বই পড়ার চিন্তা মননের েেত্র কখনো ম্লান হবে না। তা হলে বইমেলা ও বই পড়া আমাদের সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার সূচক এক সোনার কাঠি, তাকে কখনো অবহেলা ও তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়। যে সমাজে যত পড়ার অভ্যাস বেশি সেই সমাজ তত বেশি সংস্কারিত সংস্কৃতিবান ও মার্জিত। আমাদের সমাজ-সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বই। যদি সমাজ থেকে বই পড়ার অভ্যাস কমে যায় তবে বুঝতে হবে আমরা বন্ধ্যা এক জলাশয়ের মতো কোনো জায়গায় থমকে গেছি। জীবনকে গতিশীল করতে হলে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত কিংবা জীবনযাপনকে প্রাণবন্ত করতে হলে নিয়মিত বই পড়া চাই। বই আমাদের একান্ত বন্ধুর মতো সহায়ক সঙ্গী হয়ে জীবনকে চালিত করছে। বই সভ্যতার প্রাণবায়ু। যদি কোথাও বইমেলা হয়, তা হলে বুঝতে হবে সমুদ্রের অতলান্ত ঢেউ থেকে উঠে এসেছে অমৃত সুধা আর এই সুধার সব কিছুই বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে। তাই বইমেলাতে অংশ নেয়া কিংবা নিজের বই কেনার মধ্য দিয়েই এক চামচ অমৃতের স্বাদ পাওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে একটুখানি বইয়ের ইতিহাসের প্রোপট আলোচনা করা যাক। চীন দেশেই কাগজের জন্মকথায় আমরা জানতে পারি, বইকে শু (Shu) বলে চীনারা, বিচ গাছের ছাল লেখার কাজে ব্যবহার করত, এইভাবে সভ্যতা এগিয়ে গেছে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আব্দুল আহাদ তার গবেষণামূলক প্রবন্ধে বইয়ের ইতিহাস, ইতিহাসের বইয়ের প্রসঙ্গে লিখলেন- পৃথিবীর প্রাচীনতম কাগজ হলো প্যাপিরাস। এই প্যাপিরাস থেকেই আজকের পেপার শব্দের জন্ম। মিসরে জলা জায়গায় প্রচুর প্যাপিরাস জন্মাত। গাছগুলোর গোড়া পানিতে কিন্তু মাথা উঠত পানি ছাড়িয়ে। প্রাচীন মিসয়রীদের এই গাছই ছিল প্রকৃত বন্ধু। এই গাছকে পিটিয়ে তারা লেখার উপযুক্ত চাদর তৈরি করত। এই চাদরই হলো আমাদের প্রাচীনতম কাগজ। 
এখন টিভি কালচার, মোবাইল কালচারে বই পড়ার অভ্যাস আগে থেকে কিছুটা কমে গেছে মনে হয়। তা ছাড়া ইন্টারনেট, টেলিভিশন অন্য আরো বিনোদনমাধ্যম বই পড়ার অভ্যাসকে কমিয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন, তাই পাঠকেরা পড়ে। এখন ছেলেমেয়েদের ক্যারিয়ারের জন্য অভিভাবকেরা ক্যারিয়ার-বিষয়ক বই কেনেন। তাই নিয়মিত ক্যারিয়ার-বিষয়ক বই বিক্রি হতে দেখা যায়। পাঠ্যসূচির বই, কম্পিউটারের বই, নতুন প্রযুক্তির নানা রকম বই এখন পাঠকদের হাতে হাতে পরিলতি হয়। ধ্র“পদী সাহিত্যের বইও বিক্রি হতে দেখা যায়। বই পড়ার অভ্যাস নানা স্থানে বিভিন্ন রকম। কোনো কোনো অঞ্চলে কথাসাহিত্য ও ধর্মসাহিত্যের চাহিদা বেশি। তবে তার পরিসংখ্যান দেয়া খুবই কঠিন। ভারতবর্ষে প্রথম পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় খ্রিষ্টীয় চতুর্থ দশকে, ভারতীয় প্রাচীনতম বইটির নাম কাশগড়। এই বইটি সিদ্ধমাতৃকা লিপিতে লেখা ছিল। ১৯৭৮ সালে যে বইটি ইতিহাস হয়ে রয়েছে সে বইটির নাম এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ। এ বইটি লিখেছেন নাতানিয়েল ব্র্যাসি হলহেড। ভারতে প্রথম যে বইটি ছাপা হয় সেই বইটি ছিল পর্তুগিজ গ্রন্থ। বইটির নাম কনকুসোয়েস এ-উতরাস বকয়মাস। এ ভাবে কাদার ফলকে লেখা বই থেকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও পরীা-নিরীার ভেতর দিয়ে পৃথিবীর বই লেখা ও পড়ার অভ্যাস গড়েছে। উইলকিনসন নামে এক ভদ্রলোক বাংলা ছাপার কাজ তৈরি করেন পাথর কেটে আলাদাভাবে ঢালাই করে। তাই তার নাম বাংলা ছাপা বিবর্তনের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে