• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৫ মিনিট আগে
ই-পেপার

গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছাড়া বিএনপি

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার, ১০:০৫
গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ৫ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত তালাবদ্ধ রয়েছে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়। হরতাল অবরোধ ঘিরে চাঙ্গা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। নেপথ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত-শিবির। এই হলো বর্তমানে মিরসরাই উপজেলার রাজনীতির চালচিত্র।
জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির পর থেকে দেখা নেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের। আগে সিনিয়র নেতারা ছাড়াও মধ্যম সারির নেতারাও নিয়মিত উপজেলা অফিসে এলেও এখন আর কেউ আসে না। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির নেতারা ওই সময় তোড়জোড় করলেও কমিটি গঠনের পর বেশির ভাগ নেতার দেখা মেলাই ভার। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি এক হলেও নির্বাচন-পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরী ও সদস্যসচিব কাজী হাসান পৃথক কমিটি ঘোষণা করায় আবার বিভক্ত হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। উত্তরা জেলা আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি নরুল আমিনকে আহ্বায়ক ও উত্তরা জেলা সদস্যসচিব কাজী হাসান সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম আলাউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা করে। এ দিকে ঘোষিত কমিটিতে পদ পেতে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা নিয়মিত মিটিং মিছিল করলেও পরে কেন্দ্র ঘোষিত অনির্দিষ্ট কালের অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সভা সমাবেশ করতে দেখা যায়নি দলটি নেতাকর্মীদের। নির্বাচনের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে সভা সমাবেশ করতে দেখা না গেলেও তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়। আর সেই রাজনৈতিক মামলায় তাকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ দিকে ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে মিরসরাই থানা ও জোরারগঞ্জ থানায় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট ১০টি মামলায় অন্তত চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করেছে পুলিশ। বেশির  ভাগ নেতা মামলার ভয়ে চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে থাকলেও গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। 
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন বলেন, যুবদল কেন্দ্রঘোষিত অবরোধ সফল করতে মাঠে রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় অবরোধে পিকিটিং করছে নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হবে।
অন্য দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন এবং মিরসরাইয়ের এমপি ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে গ্রুপিং প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।
সম্মেলনে মোশাররফ হোসেনের প্যানেল জিতলেও হেরে যায় গিয়াস উদ্দিনের প্যানেলটি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হারার পর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলাদা কমিটি দেন গিয়াস উদ্দিন। সম্মেলনে হারার পর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী না দেয়ায় সেখানেও পরাজয় হয় গিয়াস উদ্দিনের। নির্বাচনে হারার পর থেকে ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে গিয়াস উদ্দিন। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার কাজ চলছে। কমিটি গঠনের পর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরে আইনের আওতায় আনা হবে। 
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাইনুর ইসলাম রানা ও যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন সোহেল বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি অতীতের অন্যান্য কমিটির চেয়ে অনেক কম সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটি গঠন করছে। ইতোমধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, তিনটি কলেজ, ৩৭টি উচ্চবিদ্যালয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করা হবে। ছাত্রলীগকে আওয়ামী লীগ নেতাদের আজ্ঞাবহ থেকে বের করে আনা হয়েছে।
গত বছর উপজেলা জামায়াতের আমিরকে কুপিয়ে আহত করার পরে অনেকটা গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। ৫ জানুয়ারির পরে দলটির নেতাকর্মীরা অনেকটাই গাঢাকা দিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা আমিরের অনপুস্থিতিতে সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল কবির নেতৃত্ব দিলেও গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উপজেলা জামায়াতের সহসেক্রেটারি কাউন্সিলর নুরুল হুদা হামিদী জানান, জামায়াত শিবিরের এমন কোনো নেতা নেই যার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়নি। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে