• ...
ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭ | শেষ আপডেট ০০ মিনিট আগে
ই-পেপার

প্রাণের উৎসবে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার, ১০:০৫
পয়লা ফাল্গুনে গতকাল নগরীতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ : নয়া দিগন্ত
শীত শেষে ঋতু-পরিক্রমায় এসেছে বসন্ত। গতকাল ছিল ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। ফালগুনের প্রথম সকালে সূর্যোদয়ের আগেই প্রাণের উচ্ছ্বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় মিলিত হন তরুণ-তরুণী নির্বিশেষে অনেকে। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় উৎসবে যোগ হয় নতুন মাত্রা। সব বয়সের মানুষ বসন্তবরণ উৎসব উপভোগ করে।
বেশ কিছু দিন ধরে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক, গুলশান লেক, রেস্তোরাঁ সবখানেই ছিল উৎসবপ্রিয় মানুষের ঢল। 
বাহারি পোশাকে সেজে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের সমাগম শুরু হয় ভোর থেকেই। পরিবার-পরিজনদের নিয়ে দল বেঁধে আসেন কেউ কেউ। সবারই গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায়। হলদে শাড়ি পরা তরুণীদের খোঁপায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। তরুণেরা পরেছেন পাঞ্জাবি। সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ উল্লাসে।
সকাল ৭টা থেকে যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় শুরু হয় বকুলতলার বসন্তবরণ। তারুণ্য, নতুন এবং চিরসুন্দরের আহ্বানে ফাগুনের প্রথম প্রহরে বসন্ত বন্দনা, বসন্ত কথন, ফুলের প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়, বসন্ত আড্ডায় বরণ করে নেয়া হয় ঋতুরাজ বসন্তকে।
বরাবরের মতো এবারো জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে ‘বসন্তবরণ উৎসব-১৪২১’।
বেলা ১১টার দিকে বকুলতলা প্রাঙ্গণে বের হয় শোভাযাত্রা। কী আনন্দ আকাশে বাতাসে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ শোভাযাত্রা। এরপর শুরু হয় দেশের গুণী শিল্পীদের গান, কবিতাসহ নানা আয়োজন। দেশজ সংস্কৃতির সব কিছু ফুঠে ওঠে এসব পরিবেশনায়। বয়স, শ্রেণী, পেশা সব কিছু দূরে ঠেলে দিয়ে সবাই যেন এক মঞ্চে। এমনই এক পরিবেশে শেষ হয় প্রথম পর্বের বসন্তবরণ উৎসব।
আয়োজকদের সূচি অনুসারে চারুকলায় প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এ ছাড়া রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্ক, লক্ষ্মীবাজার, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চ এবং উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের উন্মুক্ত মঞ্চে বসন্তবরণের নানা আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান চলে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
বাসন্তী রঙের শাড়ি, হলুদ বরণ পাঞ্জাবি আর হরেকরকম ফুলে সাজসজ্জা উৎসব প্রাঙ্গণকে নানামাত্রিকতায় বর্ণিল করে তোলে।  শুরুতেই দেশজ বাদ্যযন্ত্র ‘সারেঙ্গী’ পরিবেশন করেন শিল্পী মতিয়ার।
তারপর শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ রাগবাসন্তী পরিবেশন করে জানান দেন উৎসবটি বসন্তের। এরপর একে একে চলে বসন্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন পরিবেশনা। এ ছাড়া স্পন্দন, বহ্নিশিখা, নবচেতনা ধ্রুপদ কলাকেন্দ্র, সুরের ধারা, সুরসপ্তক প্রভৃতি দলগুলো একক ও সমবেত গানে অংশ নেয়।
একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সালমা আকবর, শিল্পী সুজিত মোস্তফা, ইন্দ্রানী কর্মকার, তাসমিয়া ফরহাদ তোবা, ভারত থেকে আগত শিল্পী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তিন্নি দত্ত, সাধুবেন্দ্র দাস শর্মা ও উদয় সেনগুপ্ত।
একক আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, লায়লা আফরোজ, কাকলী ও বেলায়েত হোসেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের বসন্ত আলোচনা পর্বে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিকব্যক্তিত্ব কাজল দেবনাথ, উৎসব উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মানাজার চৌধুরী সুইট, সহসভাপতি স্থপতি শফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে বসন্তবরণ উৎসব পালিত হয়েছে। এ উপলে গতকাল বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্নভাবে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করেন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় শোভাযাত্রা, নাচ, গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। 
বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত একযোগে এসব অনুষ্ঠান চলে নগরীর ফুদকিপাড়া উন্মুক্ত মঞ্চসহ বিভিন্ন স্থানে। দিনটি উপলে সকাল থেকে তারুণ্যের ঢল নামে নগরীর বড়কুঠি পদ্মাপাড়, টি-বাঁধ, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও ভদ্রার শহীদ মনসুর রহমান পার্কে। সরকারি ছুটির দিন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোক বাইরে ঘুরতে বের হন। বিশেষ করে নগরীর পদ্মাপাড়ে তাদের বেশি সমাগম দেখা গেছে।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, বসন্তের আগমন উপলক্ষে কুড়িগ্রামে খেলাঘরের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
গতকাল সকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন জয়নুল আবেদীন জিল্লুর। খেলাঘরের আহ্বায়ক সুব্রতা রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ টি এম এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মমতাজ বেগম, সাংবাদিক আহসান হাবীব নীলু প্রমুখ।  আলোচনা শেষে চার ক্যাটাগরিতে ১২ জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, ঋতুরাজ বসন্তের শুভাগমন উপলক্ষে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় মহিলা সংস্থা শরীয়তপুর জেলা শাখা। 
গতকাল সকালে মহিলা সংস্থা আয়োজিত শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক রামচন্দ্র দাস প্রধান অতিথি হিসেবে এ পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন। জাতীয় মহিলা সংস্থা শরীয়তপুরের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রওশন আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামানসহ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পিঠা উৎসবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কুলি, জামাই কুলি, ভাপা, সাজের পিঠাসহ ৪০ প্রকারের পিঠার আয়োজন করা হয়।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে