• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪১ মিনিট আগে
ই-পেপার
রেজিস্ট্রেশন বিনামূল্যের হলেও নেয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ; সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানি

বিভিন্ন স্থানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার, ১০:০৬
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানির নতুন ঘোষণায় টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলোয় হাজার হাজার আগ্রহী মানুষ কম খরচের এ অফার গ্রহণ করতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের ঘোষণা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ফরম বাবদ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং রেজিস্ট্রেশন বাবদ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এসব অর্থ গ্রহণে কোনো রসিদ দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণস্বরূপ আগ্রহীকে দেয়া হচ্ছে এক টুকরা ছেঁড়া কাগজে একটি নম্বর।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, এখানে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিদেশ গমন ইচ্ছুকেরা ভিড় করছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারো কারো কাছ থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। এমনকি টাকা নেয়ার বিপরীতে রসিদ দেয়া হচ্ছে না। 
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে লোক নেয়া হবেÑ এমন ঘোষণার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদেশ গমন ইচ্ছুকদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি লোকের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে পৌনে দুই হাজার লোকের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। তা ছাড়া নিয়মিতই এখানে বিদেশগামীদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু সৌদি আরব সে দেশে সুযোগ উন্মোচনের ঘোষণায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য। আর ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। 
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ায় অবস্থিত জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার লোক সেখানে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিড় করেছেন। শহর তথা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তারা ভোরেই এখানে এসে পৌঁছেন। যে যেভাবে পারছেন রেজিস্ট্রেশন করছেন। এ জন্য তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও এক কপি ছবি এবং সরকার নির্ধারিত ফি হিসেবে দুই শ’ টাকা। অফিসের দরজা আটকিয়ে জানালা দিয়ে এবং বারান্দার গ্রিলের ভেতর দিয়ে এসব জমা নেয়া হচ্ছে। ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সময় অফিসের সামনে পুলিশের  একটি পিকাপভ্যান পার্ক করা থাকলেও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাদের কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। 
রেজিস্ট্রেশন প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকালের দিকে সিরিয়াল মতোই সব কিছু নেয়া হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে লোকের ভিড় বাড়তে থাকে; শুরু হতে থাকে বিশৃঙ্খলা। একজন আরেকজনের ওপর দিয়ে গিয়ে কাজ সারতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সুযোগে যারা রেজিস্ট্রেশনের কাজে নিয়োজিত তাদের কেউ কেউ লোকজনের কাছ থেকে ২০০ টাকার জায়গায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। একই সাথে টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নিয়ে ছোট্ট একটি ছেঁড়া টুকরো কাগজে একটি সিরিয়াল নম্বর ও একটি তারিখ লিখে দেয়া হচ্ছে। এই টুকরো কাগজে অফিসের কোনো সিলও নেই। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সরকারি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। পাশাপাশি দালালচক্রের উৎপাত তো আছেই। 
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রামনগর থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে আসেন শ্রী পবন চন্দ্র গোস্বামী। তার টোকেনের সিরিয়াল নম্বর হলোÑ ৬৬৪৭ এবং তারিখ- ০৫-০৩-১৬। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটা কোনো সিস্টেম হলো? এখানে সুষ্ঠুভাবে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। ছেঁড়া একটি কাগজে শুধু নম্বর ও তারিখ লিখে দিচ্ছে। কাগজে কোনো সিল দেয়া হয়নি। টাকা নেয়ার কোনো রসিদও দেয়া হচ্ছে না। কোনো কারণে কাগজপত্র যদি হারিয়ে যায় আর তখন যদি তারা অস্বীকার করে যে, আমার কাছ থেকে কোনো টাকা কিংবা কাগজপত্র কিছুই নেয়া হয়নি; তখন আমি কী করব? তা ছাড়া আমার কাছ থেকে ২০০ টাকার জায়গায় ২৫০ টাকা নিয়েছে। আমি ৫০০ টাকার নোট দিয়েছিলাম। আমাকে ২৫০ টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি ৫০ টাকা ফেরত চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সাথে আর কোনো কথাই বলেনি। 
কালিহাতী উপজেলার মশাজান গ্রামের ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এই রকম সিস্টেম জীবনের প্রথম দেখলাম। টাকা নিতাছে অথচ কোনো রসিদ দিতাছে না। এরপর কী করন লাগব তাও কইতাছে না।’ 
একই উপজেলার এলেঙ্গার জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘কোনো সরকারি অফিসে টাকা নিলে অবশ্যই তার রসিদ দিতে হবে। অন্তত একটা সিল তো দিতে হবে। অথচ টাকা নিয়ে শুধু একটা ছেঁড়া কাগজে নম্বর ও তারিখ লিখে দিচ্ছে। এটা কোনো কথা হলো?’ অন্য দিকে ওই টুকরো কাগজে লেখা তারিখে কী করতে হবে তার উত্তর কেউ দিতে পারেননি। অফিস থেকেও তাদের কিছু জানানো হয়নি। 
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, একই ঘোষণায় কিশোরগঞ্জের কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে নাম নিবন্ধন এবং এর জন্য পে-অর্ডার করতে সোনালী ব্যাংকে আগ্রহী মানুষের প্রচণ্ড ভিড় শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য তারা এ দুই কার্যালয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে অপো করছেন।
জেলার জনশক্তি কার্যালয়ে ও শহরের রথখলার সোনালী ব্যাংকের সামনে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী মানুষের দীর্ঘ সারি। নাম নিবন্ধন করতে আসা এসব লোক সকাল ৮টা থেকে এসে জড়ো হচ্ছেন। এসব ব্যক্তিদের মধ্যে রিকশাচালক, দিনমজুর, হোটেল কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। 
জেলার মিঠামইন উপজেলার বিশুরিকোনা গ্রাম থেকে নিবন্ধন করতে আসা দিনমজুর আবু হোসেনের (৩৪) সাথে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের সামনে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কথা হলে তিনি বলেন, কোনো খরচ ছাড়াই সৌদি আরবে যাওয়া যাবে শুনে নিবন্ধন করতে এসেছি। সকাল ৯টা থেকে এসেও ভিড়ের কারণে এখন পর্যন্ত পে-অর্ডার করতে পারিনি। জেলার করিমগঞ্জ থেকে আসা সোহাগ মিয়া, তাড়াইলের আবু বাক্কার ও কটিয়াদীর মোজাম্মেল হোসেনও একই কথা জানালেন।
দেখা যায়, বিনা মূল্যের নিবন্ধন ফরম ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের পে-অর্ডারের আবেদনপত্রও ব্যাংকের আশপাশের দোকানে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে