Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/dailynayadiganta/public_html/allarchive/archive_hasan/includes/connect.php on line 30
Naya Diganta :: চা পাতার রাজধানী শ্রীমঙ্গল
  • ...
ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | শেষ আপডেট ২৭ মিনিট আগে
ই-পেপার

চা পাতার রাজধানী শ্রীমঙ্গল

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ৯:২০
শ্্রী অর্থ সুন্দর। মঙ্গল অর্থ ভালো। শ্্রীমঙ্গল বেড়ানোর মতো সুন্দর একটি জায়গা। কী নেই এখানে! শুধুই কি মাইলের পর মাইল চা বাগান? পাহাড়, লেক, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা সর্পিল রাস্তা, চা বাগানের ভেতরের সরু মাটির রাস্তা, দুই ধারে ঘন সবুজের সমারোহ মন আনন্দে ভরিয়ে দিতে বাধ্য।
চা বাগান : শায়েস্তাগঞ্জ দিয়ে শ্্রীমঙ্গলে ঢুকতেই প্রথমে চা বাগান চোখে পড়বে। সড়কটি খুবই আঁকাবাঁকা। মোড়গুলো কিছুটা হলেও বিপজ্জনক। প্রায় ২১ হাজার হেক্টর নিয়ে ফিনলে চা বাগান। ফিনলে চা বাগান, হরিণছড়া গলফ কাব ঘুরে দেখতে পারেন। অনুমতিসাপেে ফিনলে কটেজ, ফ্যাক্টরিও দেখা সম্ভব। সিলেটে চা বাগান রয়েছে ১৩৮টি, এর মধ্যে ৩৮টি চা বাগান শ্রীমঙ্গলে। শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। ফিনলে চা বাগানে গেলে বানর চোখে পড়বে। শত শত বানর। ওরা নেচে-গেয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। ঢিল ছুড়বেন না, তাহলে ওদের আক্রমণে তিগ্রস্ত হতে হবে। বানর খুবই সুসংবদ্ধ। দলবেঁধে ওরা চলে।
ডিনস্টন সিমেট্্ির : সমাধি তো দুঃখের জায়গা। প্রিয়জনকে মনে করে কষ্ট পাওয়ার জায়গা। এটা কি কখনো সুন্দর হতে পারে? সাজানো-গোছানো হয়? হ্যাঁ, হয়। শত বছরের পুরনো সমাধিও দেখার মতো হতে পারে। শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজঘাট ইউনিয়নের খেজুরিপাড়ায় ফিনলে চা বাগানে ডিনস্টন সিমেট্্ির। ১৮৮০ সালে বাণিজ্যিকভাবে শ্রীমঙ্গলে চা চাষের সূচনা হয়। তখন ব্রিটিশ নাগরিকেরা এখানে কাজ করতে আসেন। তাদের মধ্যে যারা মারা যান তাদের এখানে সমাহিত করা হয়। ৪৬ জন বিদেশী নাগরিককে এখানে সমাহিত করা হয়েছে।
মাধবপুর চা বাগান ও লেক : পাহাড়, চা বাগান তো এমনিতেই সুন্দর; কিন্তু পাহাড়ের মাঝে লেক হলে কতটা সুন্দর হতে পারে সেটা না দেখলে বোঝা অসম্ভব। মাধবপুর লেক এমনই। প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা। দুই পাশে পাহাড়। তাতে চা গাছ। অনান্য গাছও রয়েছে। শুধুই সবুজের হাতছানি। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর চা বাগান ও লেক। লেকের পানি ছুঁলে পরান জুড়িয়ে যাবে। মনে শান্তি শান্তি ভাব আসবে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান : শহর থেকে সবচেয়ে দূরে মাধবপুর চা বাগান ও লেক। সে কারণে ওটাই আমরা প্রথমে দেখতে যাই। মাধবপুর থেকে ফিরতি পথে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিভিন্ন জাতের বড় সারি সারি গাছের ভেতর দিয়ে চলার পথ। দিনের বেলাও পুরো আলো এখানে পড়ে না। লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতর দিয়ে ঢাকা-সিলেট রেলপথ। বনের মধ্যে রেলপথের সৌন্দর্য অন্য রকম।
ঘুরে ঘুরে কিছুটা কান্ত হতে পারেন। তখনই দিতে পারেন অতি বিখ্যাত সাত কালারের চায়ে এক চুমুক। লাউয়াছড়া বনের ভেতরে পাহাড়ের ওপরে এই চা পাওয়া যাবে। খুব নীরব এই জায়গাটা দিনের বেলায়ই গা ছম ছম করে। নীরবতা যাদের পছন্দ, আগে থেকে অনুমতি নিয়ে তারা এখানে থাকতে পারেন।
সিতেশ দেবের মিনি চিড়িয়াখানা : শহরের কাছেই এটির অবস্থান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই চিড়িয়াখানা দেখার মতো। পরিষ্কার-পরিছন্ন। প্রাণীগুলোও স্বাস্থ্যবান। এখানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ভাল্লুক। যেটিকে বশ মানাতে গিয়ে সিতেশ দেব তার মহা মূল্যবান নাক হারিয়েছেন। ছায়াচ্ছন্ন এখানে কিছুণ কাটালে মন্দ লাগবে না।
কোথায় থাকবেন : শ্রীমঙ্গলে থাকার অনেকগুলো ভালো হোটেল রয়েছে। আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে, নচেথ শীত মওসুমে রুম পাবেন না। ইচ্ছে হলে চা বাগানের মধ্যে কটেজেও থাকতে পারেন। নুর ফুডস, কুটুমবাড়ি, নোয়াখালী হোটেল, শাহ হোটেল বিখ্যাত। কুটুমবাড়ির সবজি কিংবা মাটন কড়াইয়ের স্বাদ মনে রাখার মতো। শ্রীমঙ্গল লেবু ও আনারসের জন্য বিখ্যাত। আসার সময় আনারস বা লেবু নিয়ে আসতে পারেন। হাজার বারো শ’ টাকায় একটা সিএনজি ভাড়া করে এক দিনে ওপরের সব দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখা সম্ভব। তবে এ জন্য খুব সকালে বের হতে হবে, তাহলে সন্ধ্যার আগেই ফিরতে পারবেন।
Safiq69@gmail.com
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

ফিচার -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে