• ...
ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭ | শেষ আপডেট ০৩ মিনিট আগে
ই-পেপার

রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাড়িছাড়া

মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ১০:০৩
রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। মামলার জালে আটকা পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী। এই দুই রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও মামলায় আটকে গেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বিভিন্নপর্যায়ের নেতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় কর্মীদের অনেকে আসামির তালিকায় রয়েছেন। ২০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি টানা অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বহু মামলার আসামি হয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া পুরনো বহু মামলার বোঝা তাদের ঘারে। রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে তাদের বাড়ি বাড়ি ও সম্ভাব্য এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায়ও ঠিকমতো অবস্থান করতে পারছেন না। সূত্র জানায়, অবরোধ শুরুর পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রাজশাহী মহানগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এর পর থেকে তারা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না। সিটি মেয়র ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিএনপির প্রথম সারির বেশির ভাগ ও মধ্যম সারির বেশ কিছু নেতার একই অবস্থা। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা চলমান আন্দোলনে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। টানা অবরোধ ও বিভিন্ন সময়ে হরতাল পালনে কিছু দিন থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই মাঠে নেই। তারপরেও যারা মাঠে রয়েছেন তারা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা করে কাজ করছেন। আবার কখনো ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশনা পেলে সে মোতাবেক কাজ করেন তারা। সূত্র জানায়, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা সভাপতি নাদিম মোস্তফা গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে হরতালসহ বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এ ছাড়া গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত নাদিম মোস্তফা নিজেও দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেক দিন ধরে সক্রিয় ছিলেন না বলে দলের অনেক নেতাকর্মী জানান। জানা গেছে, জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের মহানগর শাখার শীর্ষ নেতারা অনেক দিন ধরে দলীয় ও জোটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। জামায়াতের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির বেশির ভাগ নেতারা গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। তার পরেও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলীয় ও জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে মাঠে রয়েছেন। তবে পুলিশের চোখ এড়িয়ে এসব কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দলীয় সূত্রে মতে, অবরোধ শুরুর পর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ এনে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। নাশকতার কোনো ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপিয়ে মামলা হচ্ছে। আসামি করা হচ্ছে শীর্ষনেতাদের বিভিন্নপর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, পুলিশি কঠোর ধরপাকড়ে তারা দলীয় ও জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। তারা অংশ নিতে না পারলেও বিভিন্নপর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিচ্ছেন। নেতাকর্মী মাঠে আছেন ও থাকবেন বলেও দাবি সূত্রটির। কারাগারে আটক বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা সভাপতি নাদিম মোস্তফার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি অনেক শক্তিশালী। তিনি দলে সব সময়ই সক্রিয় ছিলেন। জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে ও একদলীয় বাকশাল কায়েমের ল্েয জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে গ্রেফতার অভিযান, হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। কিন্তু সরকার যতই দমন-নিপীড়ন করুক না কেন জনগণকে সাথে নিয়ে তারা চলমান আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন ও থাকবেন।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে