• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৩ মিনিট আগে
ই-পেপার

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় বরিশাল বিভাগজুড়ে নকলের মহোৎসব

আযাদ আলাউদ্দীনবরিশাল ব্যুরো
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ১০:০৩
এসএসসি ও সমমান পরীায় বরিশাল বিভাগজুড়ে চলছে অবাধে নকল, টোকাটুকি আর দেখে লেখার প্রতিযোগিতা। শিকদের নেতৃত্বে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র। এমন অভিযোগে গত শুক্রবার ইংরেজি প্রথমপত্র পরীায় দুই শিককে বহিষ্কার করাসহ একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ দিকে কেন্দ্রগুলোতে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতির কারণে সুষ্ঠু পরীা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বরিশালের মুলাদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে পরীা চলাকালে পরীার্থী প্রকাশ্যে নকল করলেও ক পরিদর্শক এক শিকিা ছিলেন নিশ্চুপ। বিষয়টি দেখে ফেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই শিককে অব্যাহতি দেন। একই কেন্দ্রে দেখা যায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ, আমিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। উপজেলার দণি কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেনুতে ওই দুই স্কুলের শিার্থীদের পরীা নেয়া হচ্ছে। যে কারণে উভয় স্কুলের শিকেরা সমঝোতা করে পরীার্থীদের নকলের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল আল মাসুদ বলেন, শিকের সামনে নকল করা হচ্ছে অথচ কিছুই বলছেন না। এটা দেখে ওই শিককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রে রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশের বিষয়টি জানা নেই। এটি খতিয়ে দেখা হবে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজে শুক্রবার যখন ইংরেজি প্রথমপত্র পরীা চলছিল তখন কেন্দ্রের মধ্যে বারান্দায় চেয়ারে বসেছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মানিক হোসেন মোল্লা। জানা গেছে তার ছেলে ওই কেন্দ্রে পরীা দিচ্ছে। একই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান ডাকুয়া, ছাত্রলীগ কলেজ শাখা সভাপতি শেখ মহিদুল ইসলাম মিরাজকে দেখা গেছে প্রকাশ্যে অবস্থান করতে। বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ  মহিদুল ইসলাম মিরাজ বলেন, তিনি একটি কাগজ আনতে কলেজের অফিস কে গিয়েছিলেন। শুক্রবার কলেজের অফিস ক খোলা থাকে কি না এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ বলেন, পরামর্শের জন্য গিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা মানিক প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, তিনি (মানিক) সিনিয়র নেতা তাই যেতে পারেন। তার ছেলেও পরীা দেয়। এ জন্যই হয়তো কলেজে তাকে দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে বাকেরগঞ্জ জেএসইউ হাইস্কুল ও উপজেলার কাকরদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীা কে শিকেরা পরীার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দিচ্ছেন। বিশেষ করে কাকরদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে নৈর্ব্যক্তিকের উত্তরপত্র শিকেরাই সরবরাহ করে থাকেন। ওই কেন্দ্রের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পরীা শুরু হলে একজন শিক করে বাইরে থাকেন। আর অন্য শিকেরা পরীার্থীদের সহায়তা করে থাকেন। তবে কেন্দ্রের ভেতরে ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা বোর্ডের কর্মকর্তা পৌঁছানো মাত্র কে কে সতর্কতা জারি করা হয়। এমন বিশেষ সুবিধার জন্য কেন্দ্র সচিবকে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয় বলে সূত্র স্বীকার করেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃধা মো: মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, তার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এমন ঘটনায় তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। শুক্রবারও দুই পরীার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন বাকেরগঞ্জ কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতা মানিক বসেছিলেন।
এ দিকে পরীার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ায় বরগুনার আমতলীতে দুই শিক সুলতান আহমেদ ও মুনিরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবেরহাট ফাজিল মাদরাসা, হিজলা আফছার উদ্দিন সিনিয়র মাদরাসা, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রের শিকদের বিরুদ্ধেও।
বরিশাল শিা বোর্ডের পরীা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর বলেন, শিকদের বিরুদ্ধে পরীা কে উত্তরপত্র বলে দেয়ার নানা অভিযোগ আসছে। তিনি বলেন, নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। যে কারণে তারা নৈর্ব্যক্তিক বিষয় বাতিলের জন্যও সুপারিশ করেছেন। পরীা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ নেই। পরবর্তী পরীাগুলোতে ভিজিলেন্স টিম পাঠিয়ে এমন অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ শিক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি দাশগুপ্ত আশিস কুমার বলেন, পরীা কে উত্তরপত্র সরবরাহ করা কিংবা বলে দেয়া মার অযোগ্য অপরাধ।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে