• ...
ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭ | শেষ আপডেট ০৬ মিনিট আগে
ই-পেপার
বিএফইউজে-ডিইউজের প্রতিবাদ সমাবেশ

সরকারের পদত্যাগ দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ১০:০৪
সরকারকে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। গতকাল এক প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্বচ্ছ ও সব দলের অংশগ্রহণে না হওয়ায় দেশে বর্তমান সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য সরকারের পদত্যাগই এখন সঙ্কট সমাধানের একমাত্র পথ; না হলে দেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) জাতীয় প্রেস কাব প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করে। বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার, বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, মাহমুদুর  রহমানের মুক্তি, সাগর-রুনির প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার, গণবিরোধী সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল, সেন্সরশিপ প্রত্যাহার, ভীতিমুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএফইউজের সহসভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে মহাসচিব এম এ আজিজ, সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, যুগ্ম-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সহসভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, যুগ্ম-সম্পাদক শাহীন হাসনাত, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মীর আহমদ মীরু, আব্দুল্লাহ ফেরদৌস, শাজাহান সাজু প্রমুখ।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন ও বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এ নির্বাচনই দেশের মূল সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এ কারণে বিরোধী জোট জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ রাজনৈতিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বিরোধী জোটের আন্দোলনকে যথার্থ উল্লেখ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না। সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আসতে পারে।
এম এ আজিজ বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে। টকশো বন্ধ করে দিচ্ছে। টকশো থেকে বের হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। টিভি মালিকদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে একুশে টিভি বন্ধ এবং চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনটিভির চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ আন্দোলন সফল না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া যাবে না।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ অব্যাহত রয়েছে। শওকত মাহমুদের মামলা এখনো তুলে নেয়া হয়নি। মাহমুদুর রহমানকে দুই বছর ধরে জেলে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অগণতান্ত্রিক সরকার না সরালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আসবে না। তিনি সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বিদায় নিন। তাহলে জাতি বর্তমান সঙ্কট থেকে মুক্তি পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে এম আব্দুল্লাহ বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ব্যাহত করতে বার্ন ইউনিটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মোমবাতিতে পোড়া একটি শিশুকে পেট্রলবোমায় আহত বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ সরকারের আমলে ২৫ জন সাংবাদিক হত্যা, ২০০ পত্রিকা বন্ধ এবং দুই হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে বর্তমান সরকারকে হটানোর কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেই সব সঙ্কট দূর হবে। তিনি অবিলম্বে মাহমুদুর রহমান ও আলহাজ মোসাদ্দেক আলীর মুক্তি এবং শওকত মাহমুদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে