• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৩ মিনিট আগে
ই-পেপার

খুলনায় অবরোধ-হরতালের সুযোগে পুলিশের চাঁদাবাজি

খুলনা ব্যুরো
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ১০:০৫
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাস্তায় নামা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা। পাশাপাশি গাড়ি রিকুইজিশনের নামে সংশ্লিষ্টদের প্রায়ই পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আবার সবকিছু ছাপিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেও হামলা আর পুলিশের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে বলেন, রিকুইজিশন বাতিলের জন্য পুলিশকে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। আবার পণ্য আনানেয়ার পথে পয়েন্টে পয়েন্টে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে পুলিশ। এ অবস্থায় তাদের ব্যবসা ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর উপায় নেই। অবশ্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিলে তাৎণিকভাবে দায়ী সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল-সংলগ্ন একমাত্র পাইকারি কাঁচাবাজারে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি নিয়ে আসা চাষি, ফড়িয়া, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর প্রবেশ মুখের প্রতিটি সড়কের, বিভিন্ন স্পটে, যানবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে ট্রাফিক ও সার্জেন্ট পুলিশ। কাগজপত্র সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিতে চাইলে গাড়ি আটকে রাখা, এলাপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়সহ হরহামেশাই নাজেহাল হতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া নাশকতা মামলার আসামি করার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। পিকআপ চালক জাকির হোসেন বলেন, সাতীরা থেকে কাঁচামাল বা গরু নিয়ে খুলনা আসার সময় কাঁঠালতলা, চুকনগর ও হোগলাডাঙ্গায় পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটি স্পটে পুলিশ ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয়। অনেক সময় মোটরসাইকেলে নিয়ে ধাওয়া করে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চায়। কাগজপত্র সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও তাদের চাঁদা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। বাধ্য হয়ে তখন পুলিশকে ৫০০ থেকে ৩০০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে ঝামেলা এড়াতে হয়। ভুক্তভোগী কাঁচামাল ব্যবসায়ী মামুন খান জানান, অবরোধ ও হরতালে তাদের ব্যবসা নেই বললেই চলে। তিনি শরীয়তপুর থেকে একটি পিকআপে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও শিম নিয়ে দুই হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে আট হাজার টাকায় এখানে এসেছেন। আসার পথে তাকে গোপালগঞ্জ ও কুদির বটতলায় পুলিশকে এক হাজার করে দুই হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে গাড়ির ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পিকআপ মালিক ও চালক শামীম গাজী বলেন, রাস্তায় গাড়ি নামাতে ভয় পাই, তারপর ১৭ দিন রিকুইজিশন খেটে গতকাল গাড়ি নিয়ে মালবোঝাই করতে ট্রাকস্ট্যান্ড আসার সময় আবার জিরো পয়েন্ট থেকে আমার গাড়িটি রিকুইজিশন করা হয়। একই মন্তব্য চালক অতনু বিশ্বাসের। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চাঁদাবাজির প্রমাণপত্র হিসেবে তিনি একটি ছোট খাতা দেখিয়ে বলেন, আমার মেট্রো পুলিশ ও জেলা পুলিশের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে মাসিক করা। প্রতি মাসে দুইজন সার্জেন্ট (জেলা ও মেট্রো) এই খাতায় সই করে ২০০ টাকা করে ৪০০ টাকা নেয়। এ সই না দেখাতে পারলে মামলা দেয়াসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে। মধুমতি সল্টের মালিক শিল্পপতি মো: আকতার হোসেন ফিরোজ বলেন, ‘ফ্যাক্টরির কাঁচামাল নৌপথে আসায় এখনো উৎপাদন চলছে। তবে পরিবহন সঙ্কটে দেশের বিভিন্ন বাজারে লবণ সরবরাহ না করতে পেরে গুদামে মালের স্তূপ জমেছে।’ গাড়ি রিকুইজিশন বিষয়ে কেএমপি’র ডিসি (হেডকোয়ার্টার) আবুল বাশার তালুকদার জানান, হরতালের আগে তাদের ৬৩ থেকে ৬৭টি গাড়ি রিকুইজিশন করতে হয়। রিকুইজিশনকৃত গাড়ি সর্বোচ্চ তিন দিন পরে ছেড়ে দেয়া হয়। রিকুইজিশন বা অবৈধভাবে কেএমপির কোনো সদস্য অর্থ গ্রহণ করলে তাকে সাথে সাথে কোজ করা হবে বলে জানান তিনি। অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান বিপিএম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি বলেন, যানবাহন সঙ্কটের কারণে আমাদের গাড়ি রিকুইজিশন করতে হয়। কিন্তু রিকুইজিশনের অজুহাতে কেউ অবৈধভাবে টাকা নিলে, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে