• ...
ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৯ মিনিট আগে
ই-পেপার

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ভর্তুকির অর্থই ভরসা হতে যাচ্ছে

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার, ১০:৪৯
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ভর্তুকির অর্থই ভরসা হতে যাচ্ছে। পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দিতে হলে প্রয়োজন পড়বে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই পরিমাণ অর্থ শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সরকারের জন্য দূরূহ হয়ে পড়বে। তাই চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতনের অর্থের জোগান দেয়া হবে ভর্তুকির খাত থেকে। এ ক্ষেত্রে দু’টি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর একটি জ্বালানি খাত এবং অন্যটি অগুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ ব্যয় কমিয়ে। প্রাথমিক হিসাব করে দেখা গেছে, এই দ্ইু খাত থেকে আগামী অর্থবছরে অর্থ ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রাথমিক হিসাবে এখান থেকে ব্যয় সাশ্রয় করা যাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বেঁচে যাওয়া এই অর্থ দিয়েই সরকারি চাকরিজীবীদের বর্ধিত বেতন দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে জোগাড় করা হবেÑ গত বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তাকে এ প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, সরকারের রাজস্ব আয় থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা মূলত দেয়া হয়ে থাকে। চিন্তা করা হয়েছিল এবার রাজস্ব আয় ভালো হবে। কিন্তু চলমান অবরোধ-হরতাল সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। তাই রাজস্ব খাত থেকে বর্ধিত বেতনের ব্যয় মেটানোর চিন্তা আপাতত বাদ দেয়া হয়েছে। তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অন্য খাত থেকে আমরা এ অর্থের জোগান দেবো। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-কে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। কিন্তু এবার তা দিতে হচ্ছে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৬০ ডলারের নিচে নেমে গেছে। ফলে বিপিসিকে আগামী অর্থবছরেও এখাতে কোনো ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তাই এই খাত থেকে ৫-৭ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হবেÑ যা দিয়ে নতুন পে-স্কেলের আংশিক ব্যয় মেটানো যাবে। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে।
শুধু এখান থেকেই নয়, আগামী অর্থবছরে অগুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত থেকেও অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে আনা হবে। একই সাথে এবারকার এডিপিতে যে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, তা-ও খরচ করা সম্ভব হবে না। কারণ রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এডিপি বাস্তবায়নের হার ভালো নয়, আগামী ক’মাসে এ অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না। ফলে বছর শেষে সেখান থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ফলে পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, দ্ইু ভাগে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম বছর বর্ধিত বেতন দেয়া হবে এবং পরের বছর দেয়া হবে ভাতাদি।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত ‘বেতন ও চাকরি কমিশন২০১৩’ (পে-কমিশন) তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছিলÑ ‘প্রতি বছর ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০টি পদের বিপরীতে ফিক্সেশন বেনিফিটসহ বেসামারিক সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন খাতে বার্ষিক ২১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। প্রতিরক্ষা খাত বাদে বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বাজেটে বেতন খাতে বরাদ্দ আছে মোট ১১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। অতএব ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত প্রয়োজন পড়বে ১০ হাজার ৯০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।’
পে-কমিশন প্রতিবেদন মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞা নেতৃত্বে একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত তাদের সুপারিশের আলোকেই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন করা হবে মন্ত্রিসভায়।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

শেষের পাতা -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে