• ...
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ | শেষ আপডেট ৪৪ মিনিট আগে
ই-পেপার
মসজিদ কাউন্সিলের ‘হাসানা’ মডেল

জাকাতের অর্থে ভাগ্য বদল হয়েছে আব্দুস সাত্তারের


২ জুলাই ২০১৪, বুধবার, ৯:৫৫
জাকাতের টাকায় আবাদ করা ভুট্টাক্ষেতে কর্মরত স্বাবলম্বী কৃষক আবদুস সাত্তার : নয়া দিগন্ত
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার একটি গ্রাম পারতিল্লী। এ গ্রামের বেশির ভাগ লোকই হতদরিদ্র। তাদের প্রধান পেশা কৃষি ও দিনমজুরি। এ ছাড়া রিকশা চালানো, গাড়ি চালানো, মাটিকাটা ও কারখানায় শ্রম দিয়ে তাদের সংসার চলে। এ গ্রামের অধিবাসীদের পেশা যাই হোক না কেন দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। এ গ্রামের এমনই এক অধিবাসী আব্দুস সাত্তার। পেশায় দিনমজুর। প্রতি দিনের আয় দিয়ে চলে তার সংসার। এক দিন কাজ করতে না পারলে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হতো। 
নিজের স্থায়ী সম্পদ বলতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পাঁচ শতকের বসতভিটা। সেখানে ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। এভাবেই শুরু হয় আব্দুস সাত্তারের জীবন সংসার। একটি ছাপরা ঘর তোলার মতো সম্বলও তার ছিল না। ঋণ নিয়ে সুদসহ পরিশোধের ভয়ে ওই পথে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। এমনি পরিস্থিতিতে ২০০৮ সালে এলাকায় জাকাতভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করে মসজিদ কাউন্সিল যা ‘হাসানা’ নামে পরিচিত। আব্দুস সাত্তারের পরিবার এখন আর অভাবগ্রস্ত নয়। পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। 
এত অল্প সময়ে আবদুস সাত্তারের পরিবারের সচ্ছলতা আসার পেছনে কাজ করেছে মসজিদ কাউন্সিলের জাকাতের টাকায় পরিচালিত ‘হাসানা’ কর্মসূচি। ২০০৫ সালে মসজিদ কাউন্সিল জাকাতভিত্তিক দারিদ্র্যবিমোচনের কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করে যা ‘হাসানা’ নামে পরিচিত। মসজিদকেন্দ্রিক ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবারের সমন্বয়ে গঠন করা হয় একেকটি গ্রাম সংগঠন বা সমিতি যার নাম দেয়া হয়েছে ‘হাসানা’। বর্তমানে এ কার্যক্রম মানিকগঞ্জ জেলার সদর, সাটুরিয়া উপজেলা ও দিনাজপুর জেলার বোঁচাগঞ্জ উপজেলার দিঘড়ী গ্রামে প্রায় এক হাজার ৮১টি দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে এ রকম ৩৫ গ্রাম সংগঠন বা হাসানা গ্রুপ। নতুন করে চলতি বছর আরো ১৭টি গ্রুপ গঠনের জন্য জরিপকার্যক্রম চলছে। এ সব হাসানা প্রুপ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পাঁচটি ভিন্ন  হাসানা অঞ্চলের তত্ত্বাবধানে। 
আব্দুস সাত্তার এমনই একটি হাসানা গ্রুপের সদস্য। যার সদস্য ৩০ জন, যাকে ভাগ করা হয়েছে ছয়টি ক্ষুদ্র ইউনিটে। প্রত্যেকটি ইউনিট থেকে একজন করে সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়েছে ছয় সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি যার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে প্রত্যেকটি হাসানা গ্রুপ। জাকাতের টাকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মালিকানা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিটি হাসানা গ্রুপের নামে পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে মসজিদ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এককালীন জমা করা হয়েছে প্রত্যেক সদস্য পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা হিসাবে তিন লাখ টাকা। এ টাকার পূর্ণ এবং সমান মালিকানা দেয়া হয়েছে সমিতির ৩০ সদস্যকে। মসজিদ কাউন্সিলের কর্মীরা বেইজড লাইন সার্ভের মাধ্যমে এসব সদস্য সংগ্রহের কাজটি করে থাকেন। ওই সার্ভের মাধ্যমেই বের করা হয় কোন সদস্যকে কী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কিছু দিনের মধ্যে এলাকার সার্বিক চিত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়। চাহিদা ও যথার্থতা অনুযায়ী পরিচালিত হয় কর্মমুখী বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ। এ জাতীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যেক সদস্যকে গড়ে তোলা হয় দক্ষ কর্মী হিসেবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারাই ঠিক করেন কোন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। এমন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী দেয়া হয় জাকাতের অর্থ। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পরিবর্তন হতে থাকে তাদের ভাগ্য, পরিবারে আসে সচ্ছলতা। প্রশিক্ষণের পর সদস্যরা ইচ্ছামতো নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগ করতে থাকেন প্রাপ্ত জাকাতের অর্থ। 
মসজিদ কাউন্সিলের মাঠকর্মীদের পরামর্শে আব্দুস সাত্তার শুরু করেন কৃষিকাজ। ২০০৮ সালের ৮ এপ্রিল প্রথম বিনিয়োগ নেন হাসানা গ্রুপ থেকে। লিজ নেন কিছু জমি, সে জমিতে চাষ করেন সবজি ও ভুট্টা। ওই বছরেই কৃষিকাজ করে ভালো লাভ পান। নিজের আয় দিয়ে বাড়িতে থাকার জন্য ঘর তৈরি করেন। শুরু করেন সেচের ব্যবসা। এ পর্যন্ত তিনি হাসানা গ্রুপ থেকে সাত দফায় বিনিয়োগ নিয়েছেন প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা। যার মাধ্যমে তিনি এ পর্যন্ত আয় করেছেন সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ আয়ের মাধ্যমে সারা বছর সংসার চালিয়েও স্থায়ী সম্পদ হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার। এখন আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে স্কুলে পড়ালেখা করছে।
মসজিদ কাউন্সিল পরিচালিত হাসানা প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ও উল্লিখিত প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান আহমাদ জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখের বেশি টাকা দিয়ে এ হাসানা প্রকল্প চালু করা হয়। এ এলাকায় সুবিধাভোগী পরিবার ৪৫০টি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জাকাত, ফিতরা ও সাদাকাহ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এ অর্থ। বিজ্ঞপ্তি।
পাঠকের মতামত
আপনার মতামত
নাম
ই-মেইল
মতামত
CAPTCHA Image

নগর মহানগর -এর অন্যান্য সংবাদ
উপরে